
নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে সম্পর্কে আবেগিক স্বস্তিকে প্রভাবিত করে
নিজের প্রতি একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আবেগিক স্বস্তিকে প্রভাবিত করে, কারণ তিনি নিজেকে যেভাবে দেখেন, সেটি প্রায়ই ভালোবাসা, আশ্বাস, মনোযোগ ও ঘনিষ্ঠতা গ্রহণের ধরন নির্ধারণ করে। নিজের ভেতরে নিরাপত্তাবোধ থাকলে আবেগিক সংযোগ সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নাজুক হলে সঙ্গীর আন্তরিক কথা বা যত্নও সন্দেহজনক, অস্বস্তিকর কিংবা পুরোপুরি গ্রহণ করা কঠিন মনে হতে পারে।
নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি মনের ভেতরের একটি ছাঁকনির মতো কাজ করে
নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি শুধু বাহ্যিক চেহারার বিষয় নয়। এটি নিজের মূল্য, আকর্ষণীয়তা, ব্যক্তিত্ব এবং সম্পর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান নিয়ে একজন মানুষের মনে থাকা ব্যক্তিগত গল্প।
সেই গল্পটি নীরবে ভালোবাসাকে ব্যাখ্যা করার ধরন প্রভাবিত করতে পারে।
কেউ নিজেকে “যথেষ্ট ভালো নয়” বলে মনে করলে আশ্বাস বিশ্বাস করতে কষ্ট হতে পারে। নিজেকে যত্ন পাওয়ার অযোগ্য মনে হলে আন্তরিক আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন। অতীতের সমালোচনা মনে গেঁথে থাকলে কেউ বিচার না করলেও তিনি বিচারিত বোধ করতে পারেন।
এ কারণেই আবেগিক স্বস্তি শুধু সঙ্গী কী বলছেন, তার ওপর তৈরি হয় না। ওই কথাগুলো একজন মানুষ কীভাবে গ্রহণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সঙ্গী হয়তো বললেন, “আজ তোমাকে সুন্দর লাগছে,” কিন্তু তিনি ভাবতে পারেন, “শুধু আমাকে ভালো অনুভব করানোর জন্যই কথাটি বলছে।”
সঙ্গী ভালোবাসা প্রকাশ করলেও তিনি ভাবতে পারেন, “সে কি সত্যিই আন্তরিক?”
ক্লান্তির কারণে সঙ্গী চুপ থাকলেও তিনি ধরে নিতে পারেন, “হয়তো তার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।”
এর অর্থ ওই ব্যক্তি দুর্বল বা অযথা বাড়াবাড়ি করছেন না। অনেক সময় নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিই সম্পর্কের প্রতিটি বিষয়কে এমনভাবে ছেঁকে দেয়, যার কারণে তিনি সম্পর্কের মধ্যে পুরোপুরি স্বস্তি অনুভব করতে পারেন না।
মনের ভেতরের ছাঁকনির চক্র
বিষয়টি বোঝার একটি সহায়ক উপায় হলো মনের ভেতরের ছাঁকনির চক্র।
নিজের সম্পর্কে আমি যা বিশ্বাস করি
মনের গোপন ভাবনা: “আমি যথেষ্ট ভালো নই,” “আমাকে ভালোবাসা কঠিন,” অথবা “আমার চেহারা বা আচরণ যেমন হওয়া উচিত, তেমন নয়।”
সঙ্গীর আচরণকে আমি যেভাবে ব্যাখ্যা করি
মনের প্রতিক্রিয়া: “সে নিশ্চয়ই আমাকে বিচার করছে,” “তার আমার প্রতি আগ্রহ নেই,” অথবা “সে শুধু ভদ্রতা করছে।”
সম্পর্কের মধ্যে আমি যেভাবে আচরণ করি
আচরণগত প্রতিক্রিয়া: নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া, বারবার আশ্বাস চাওয়া, আবেগিকভাবে গুটিয়ে থাকা অথবা সৎ ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলা।
সহজভাবে বললে, নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ভালোবাসা দেওয়া এবং ভালোবাসা গ্রহণের মাঝখানে একটি ছাঁকনির মতো কাজ করে।
কখনো সম্পর্কে যত্নের অভাব থাকে না। কিন্তু ওই যত্নটি সত্যি বলে বিশ্বাস করা একজন মানুষের জন্য কঠিন হতে পারে।
এই ব্যবধান ধীরে ধীরে আবেগিক স্বস্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
যখন প্রশংসা সহজে বিশ্বাস করা যায় না
নিজের প্রতি নাজুক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা একজন মানুষ সরাসরি ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান নাও করতে পারেন। কিন্তু মনের ভেতরে সেটি গ্রহণ করতে কষ্ট হতে পারে।
প্রশংসা পেলে তিনি হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিতে পারেন। কৃতজ্ঞতা বা স্বীকৃতি পেলে প্রসঙ্গ বদলে ফেলতে পারেন। সঙ্গীর মনোযোগে অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। আশ্বাস প্রয়োজন হলেও আশ্বাস পাওয়ার পর সেটি বিশ্বাস করতে না-ও পারেন।
বাংলাদেশের অনেক পরিবারে চেহারা, বিয়ে, ওজন, আয় অথবা একজন মানুষ জীবন কতটা ভালোভাবে সামলাচ্ছেন—এসব নিয়ে করা সাধারণ মন্তব্যও ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় মনে থেকে যেতে পারে।
বাইরে থেকে এসব মন্তব্য ছোট মনে হতে পারে।
কিন্তু বারবার শুনলে এগুলো একজন মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারে।
পরবর্তী সময়ে যত্নশীল সম্পর্কের মধ্যেও পুরোনো কথাগুলো ফিরে আসতে পারে। তখন মানুষটি শুধু বর্তমান সঙ্গীর আচরণে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন না; বছরের পর বছর তুলনা, সমালোচনা বা মাপা হওয়ার অভিজ্ঞতাতেও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
এ কারণেই কখনো আশ্বাসের জন্য একটি বাক্যের চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে আবেগিক ধৈর্যও প্রয়োজন।
নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে মানুষকে আবেগিকভাবে গুটিয়ে দিতে পারে
নিজের সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকলে একজন মানুষ নিজের আবেগকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করতে পারেন।
তিনি নিজের প্রয়োজন বেশি প্রকাশ করা এড়িয়ে যেতে পারেন। অনিরাপত্তা লুকাতে পারেন। ভেতরে যতটা শক্ত বোধ করছেন, বাইরে তার চেয়ে বেশি শক্ত হওয়ার অভিনয় করতে পারেন। ঘনিষ্ঠতা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় আবেগিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন।
এতে সঙ্গী বিভ্রান্ত হতে পারেন।
একজন ভাবতে পারেন, “আমি যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করলেও সে দূরে সরে যাচ্ছে কেন?”
অন্যজন ভাবতে পারেন, “আমার অনিরাপত্তা দেখলে সে হয়তো আমাকে আগের মতো সম্মান করবে না।”
এভাবেই নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আবেগিক স্বস্তিকে প্রভাবিত করে। এটি ঘনিষ্ঠতাকে সংযোগের বদলে নিজেকে পুরোপুরি প্রকাশ করে ফেলার ঝুঁকি বলে মনে করাতে পারে।
একজন মানুষ ভালোবাসা চাইতে পারেন, কিন্তু তা গ্রহণের সময় অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। সৎভাবে কথা বলতে চাইতে পারেন, কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরশীল শোনাবে বলে ভয় পেতে পারেন। সান্ত্বনা চাইতে পারেন, কিন্তু অন্যের জন্য বোঝা হয়ে যাবেন বলে চিন্তা করতে পারেন।
বাংলাদেশের কিছু সম্পর্কে মানুষকে নীরবে মানিয়ে নিতেও শেখানো হয়। ফলে “আমি অনিরাপদ বোধ করছি” বলার বদলে তারা চুপ থাকেন এবং আশা করেন অনুভূতিটি নিজে থেকেই চলে যাবে।
কিন্তু নীরবতা সাধারণত অনিরাপত্তাকে সেরে ওঠার নিরাপদ জায়গা দেয় না।
সাধারণ ভুল: নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে শুধু ব্যক্তিগত বিষয় মনে করা
নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিগত হলেও এর প্রভাব ব্যক্তির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
প্রতিক্রিয়া, প্রত্যাশা ও আবেগিক অভ্যাসের মাধ্যমে এটি সম্পর্কের মধ্যেও প্রবেশ করে।
উদাহরণ হিসেবে, কেউ নিজেকে যত্ন পাওয়ার অযোগ্য মনে করলে সঙ্গী এখনো যত্নশীল কি না, তা বারবার পরীক্ষা করতে পারেন। জীবনের স্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে লজ্জা থাকলে তিনি আবেগিকভাবে খোলামেলা হওয়া এড়িয়ে যেতে পারেন। নিজেকে ভালোবাসা কঠিন বলে মনে করলে ছোট মতবিরোধকেও সম্পর্ক অনিরাপদ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখতে পারেন।
কী ঘটছে, সঙ্গী তা বুঝতে নাও পারেন।
তিনি শুধু মেজাজের পরিবর্তন, দূরত্ব অথবা বারবার সন্দেহ করার বিষয়টি দেখতে পারেন।
এ কারণেই সম্পর্কের মধ্যে নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। এটি দুজন মানুষের মধ্যকার আবেগিক পরিবেশ বদলে দিতে পারে।
| নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিসংক্রান্ত উদ্বেগ | সম্পর্কে এটি যেভাবে প্রকাশ পেতে পারে |
|---|---|
| “আমি যথেষ্ট ভালো নই।” | আশ্বাস বিশ্বাস করতে কষ্ট হওয়া |
| “আমাকে হয়তো বিচার করা হবে।” | সৎ আবেগ প্রকাশ করা এড়িয়ে যাওয়া |
| “আমি অনেক বেশি বদলে গেছি।” | মনোযোগ বা ভালোবাসা পেলে অস্বস্তি বোধ করা |
| “অন্যরা আমার চেয়ে ভালো।” | নিজের সম্পর্ককে অন্যদের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করা |
| “আমাকে ভালোবাসা কঠিন।” | প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আগেই নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া |
এসব আচরণ ব্যক্তিত্বের ত্রুটি নয়। এগুলো দেখাতে পারে যে ওই ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে আরও বোঝাপড়া ও সহায়তা প্রয়োজন।
যখন তুলনা আবেগিক স্বস্তি কেড়ে নেয়
তুলনা নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে অস্থির করে তোলার দ্রুততম উপায়গুলোর একটি।
একজন মানুষ নিজের চেহারা, জীবনযাপন, দাম্পত্য সম্পর্ক, কর্মজীবন, আত্মবিশ্বাস অথবা ব্যক্তিত্বকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিষয়টি আরও কঠিন করে তুলতে পারে, কারণ সেখানে মানুষের পুরো জীবন নয়, বেছে নেওয়া কিছু মুহূর্তই দেখা যায়।
বাংলাদেশে পারিবারিক অনুষ্ঠান, আত্মীয়দের মন্তব্য, সামাজিক প্রত্যাশা অথবা বিয়েসংক্রান্ত চাপ থেকেও তুলনা তৈরি হতে পারে। একজন মানুষ তার চেহারা, আচরণ, আয় অথবা জীবন সামলানোর ধরন নিয়ে অন্যরা বিচার করছে বলে অনুভব করতে পারেন।
তুলনার সমস্যা হলো, এটি আবেগিক স্বস্তিকে শর্তসাপেক্ষ করে তোলে।
একজন মানুষ শুধু নিজেকে “যথেষ্ট ভালো” মনে হলেই স্বস্তি অনুভব করতে পারেন। কিন্তু কঠিন দিনে তিনি নিজেকে ভালোবাসা বা ঘনিষ্ঠতা পাওয়ার কম যোগ্য মনে করতে পারেন।
সম্পর্কের ভেতরে এভাবে জীবনযাপন করা কষ্টদায়ক।
একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য বোধ করার আগে কাউকে নিখুঁত অনুভব করতে হবে না। একজন মানুষ পরিবর্তনশীল, অসম্পূর্ণ ও স্বাভাবিক মানুষ হয়েও যত্ন পেলে আবেগিক স্বস্তি গড়ে ওঠে।
সঙ্গী কি সত্যিই আপনাকে প্রত্যাখ্যান করছেন, নাকি নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ঘটনাটিকে সেভাবে ব্যাখ্যা করছে?
এটি কঠিন হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন।
প্রতিটি অস্বস্তিকর অনুভূতি সঙ্গীর আচরণ থেকে আসে না। কখনো অতীতের সমালোচনা, ভয়, তুলনা অথবা নিজের ভেতরের সন্দেহ থেকেও অনুভূতিটি তৈরি হতে পারে।
এর অর্থ অনুভূতিটি মিথ্যা নয়। এর অর্থ হলো, প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে অনুভূতিটিকে যত্নসহকারে বোঝার প্রয়োজন হতে পারে।
একজন মানুষ নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন:
• আমার সঙ্গী কি সত্যিই কষ্টদায়ক কিছু বলেছেন?
• পরিষ্কার প্রমাণ ছাড়াই কি আমি ধরে নিচ্ছি যে আমাকে বিচার করা হচ্ছে?
• অন্য পরিস্থিতিতেও কি আগে এমন অনিরাপত্তা অনুভব করেছি?
• আমি কি বর্তমান মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি, নাকি পুরোনো কোনো ভয় থেকে?
• আমার কি শুধু আশ্বাস প্রয়োজন, নাকি আরও গভীর একটি আলোচনা প্রয়োজন?
• সঙ্গীকে দোষ না দিয়ে কি আমি অনুভূতিটি বোঝাতে পারি?
এসব প্রশ্ন নিজেকে দোষ দেওয়ার জন্য নয়।
এগুলো আবেগিক বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য।
কখনো সঙ্গীর আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার একই সময়ে নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে ওই মুহূর্তকে প্রভাবিত করছে, সেটিও খেয়াল করা প্রয়োজন হতে পারে। দুটিই একসঙ্গে সত্য হতে পারে।
নিজের ভেতর থেকে কীভাবে আরও আবেগিক স্বস্তি তৈরি করবেন
আবেগিক স্বস্তি উন্নত করার অর্থ এক রাতের মধ্যে নিজেকে “আত্মবিশ্বাসী হতে” বাধ্য করা নয়। এমন পরামর্শ বাস্তবে তেমন কাজে আসে না।
প্রকৃত পরিবর্তন ধীরে আসে।
মনের ভেতরের ছাঁকনিটি খেয়াল করা দিয়ে পরিবর্তন শুরু হতে পারে। কোনো আন্তরিক কথা বিশ্বাস করা কঠিন হলে একটু থামুন এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “এই কথাটি গ্রহণ করা আমার জন্য কঠিন লাগছে কেন?”
আরও সৎভাবে কথা বলাও সহায়ক হতে পারে।
“তুমি আমার যত্ন নাও না” বলার বদলে কেউ বলতে পারেন, “আমি জানি তুমি চেষ্টা করছ, কিন্তু কখনো কখনো আশ্বাস বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হয়।”
অস্বস্তি লুকিয়ে রাখার বদলে বলতে পারেন, “এ বিষয়টি নিয়ে আমি অনিরাপদ বোধ করছি এবং আমার একটু ধৈর্য প্রয়োজন।”
বাক্যগুলো সহজ, কিন্তু এগুলো বিভ্রান্তি কমাতে পারে।
যে বিষয়টি কখনো বুঝতে দেওয়া হয় না, একজন যত্নশীল সঙ্গী সেটিতে সহায়তা করতে পারবেন না।
একই সঙ্গে, একজন সঙ্গীর কাছ থেকে অন্যজনের নিজের প্রতি সম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি একাই ঠিক করে দেওয়ার প্রত্যাশা করা উচিত নয়। আবেগিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ, তবে আত্মমর্যাদা গড়ে তুলতে নিজের ভেতরের কাজ, আত্মপর্যালোচনা এবং কখনো পেশাদার নির্দেশনাও প্রয়োজন হতে পারে।
সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে দেখার আরও স্বাস্থ্যকর উপায়
একটি সম্পর্ক এমন আয়নায় পরিণত হওয়া উচিত নয়, যা প্রতিদিন আপনার মূল্য নির্ধারণ করে।
সঙ্গীর মনোযোগ অর্থপূর্ণ হতে পারে। তার ভালোবাসা আশ্বাস দিতে পারে। তার কথাগুলো আপনাকে সহায়তা করতে পারে।
কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে আপনি প্রশংসিত, লক্ষ্য করা বা স্বীকৃতি পাওয়া অনুভব করছেন কি না—শুধু তার ওপর আপনার মূল্য নির্ভর করা উচিত নয়।
নিজের প্রতি আরও স্বাস্থ্যকর দৃষ্টিভঙ্গি বলে:
“আমার অনিরাপত্তা থাকতে পারে, তবু আমি যত্ন পাওয়ার যোগ্য।”
“সময়ের সঙ্গে আমি বদলাতে পারি, কিন্তু আমার মূল্য কমে যায় না।”
“নিখুঁত না হয়েও আমি ভালোবাসা গ্রহণ করতে পারি।”
“নিজের অনিরাপত্তাকে দোষারোপে পরিণত না করে আমি সেটি নিয়ে কথা বলতে পারি।”
নিজের সম্পর্কে এমন ধারণা আবেগিক স্বস্তি বাড়ায়।
এটি ঘনিষ্ঠতাকে পরীক্ষার মতো না মনে করিয়ে দুজনের ভাগ করে নেওয়া নিরাপদ জায়গার মতো অনুভব করায়।
সবচেয়ে কোমল সম্পর্কেও ভেতরের নিরাপত্তাবোধ প্রয়োজন
নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আবেগিক স্বস্তিকে প্রভাবিত করে, কারণ একজন মানুষ নিজেকে কী পাওয়ার যোগ্য মনে করেন, সেটি এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
কেউ নিজেকে সব সময় সমালোচনার চোখে দেখলে ভালোবাসাও সন্দেহজনক মনে হতে পারে। নিজের প্রতি আরও ন্যায্য দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হলে ঘনিষ্ঠতা গ্রহণ করা সহজ হয়।
লক্ষ্য প্রতিদিন আত্মবিশ্বাসী অনুভব করা নয়। কেউই প্রতিদিন তা অনুভব করেন না।
লক্ষ্য হলো, নিজের সন্দেহকে প্রতিটি আন্তরিক আচরণের চেয়ে বেশি জোরে কথা বলতে না দেওয়া।
একটি সম্পর্ক যত্ন দিতে পারে, তবে সেই যত্ন গ্রহণ করার অনুমতি নিজের মনকেও দিতে হয়।
কখনো আবেগিক স্বস্তি একটি নীরব সিদ্ধান্ত দিয়ে শুরু হয়: “সম্মানের সঙ্গে ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আমাকে নিখুঁত হতে হবে না।”
মূল বিষয়গুলো
• নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি মানুষ কীভাবে ভালোবাসা, আশ্বাস ও আবেগিক ঘনিষ্ঠতা গ্রহণ করেন, তা প্রভাবিত করে।
• নিজের প্রতি নাজুক দৃষ্টিভঙ্গি যত্নকে সন্দেহজনক, অস্বস্তিকর অথবা বিশ্বাস করা কঠিন মনে করাতে পারে।
• তুলনা, অতীতের সমালোচনা, পরিবারের মন্তব্য ও সামাজিক চাপ নিজের প্রতি ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে।
• আবেগিক অস্বস্তির অর্থ সব সময় সম্পর্কটি ব্যর্থ হচ্ছে নয়।
• সৎ আলোচনা সঙ্গীদের দোষারোপ ছাড়াই অনিরাপত্তা বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
• নিজের প্রতি স্বাস্থ্যকর দৃষ্টিভঙ্গি নিখুঁত না হয়েও গ্রহণযোগ্য বোধ করতে সাহায্য করে।
কখন পেশাদার সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন
নিজের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট, লজ্জা, ভয়, আবেগিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, বারবার বিরোধ, আশাহীনতা, মানসিক আঘাতজনিত প্রতিক্রিয়া অথবা সম্পর্কের মধ্যে নিরাপদ বোধ করতে অসুবিধা হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার কথা বিবেচনা করুন।
নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবনা সব সময় চলতে থাকলে, কোনো আশ্বাসই বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলে অথবা অনিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরে দৈনন্দিন জীবন ও আবেগিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করলেও সহায়তা উপকারী হতে পারে।
সহায়তা নেওয়ার অর্থ দুর্বলতা নয়। এর অর্থ আপনার আবেগিক স্বস্তি যথাযথ যত্ন পাওয়ার যোগ্য।
নিরাপত্তাবিষয়ক নোট
এই নিবন্ধটি শুধু সাধারণ শিক্ষামূলক তথ্যের জন্য এবং এটি চিকিৎসা, মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা বা সম্পর্কবিষয়ক পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনি যদি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট, ব্যথা, চাপ, ভয়, নির্যাতন, মানসিক আঘাত অথবা গুরুতর সম্পর্কের দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকেন, তাহলে একজন যোগ্য পেশাজীবী অথবা বিশ্বস্ত সহায়তাকারী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার কথা বিবেচনা করুন।