আপনার কার্ট

  • আপনার কার্ট খালি!
৳১০,০০০-এর বেশি অর্ডারে ফ্রি শিপিং!
মাইক্রোপেনিস কী? কারণ, লক্ষণ, নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসা
Beshi Khushi Last Update: ডিসে 24, 2025 275

Micropenis (মাইক্রোপেনিস)

মানুষ সাধারণত “মাইক্রোপেনিস” শব্দটি ব্যবহার করেন এমন একটি লিঙ্গ বোঝাতে, যা গড় আকারের তুলনায় ছোট মনে হয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাইক্রোপেনিসের আলাদা ও খুব নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আছে। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে শিশুর জন্মের আগে বা শুরুর দিকে লিঙ্গের বৃদ্ধি কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, শরীর প্রয়োজনীয় হরমোন সংকেত না পেলে স্বাভাবিক লিঙ্গবিকাশ ব্যাহত হয়।

অবস্থা‌টি খুবই বিরল—প্রায় প্রতি ২০,০০০ পুরুষ শিশুর মধ্যে ৩ জনে দেখা যায়। তবে আগে থেকে শনাক্ত করা জরুরি। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে শৈশবেই হরমোন থেরাপি উপকারী হয়, আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধে সাড়া না মিললে সার্জারির কথা ভাবা হয়। মাইক্রোপেনিস ঠিক কী—তা বোঝা বাবা-মা ও রোগীকে অযথা ভয় বা ভুল ধারণা থেকে দূরে রাখে এবং সঠিক চিকিৎসার পথ দেখায়।

 

মাইক্রোপেনিস কী?

মাইক্রোপেনিস মানেই “ছোট লিঙ্গ” নয়—এটি একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত অবস্থা। বয়স ও জাতিগত গড় আকারের তুলনায় লিঙ্গের মাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হলে তাকে মাইক্রোপেনিস বলা হয়। একে মাইক্রো পেনাইল সিন্ড্রোম বা মাইক্রোফ্যালাসও বলা হয়।

চিকিৎসকেরা সাধারণত stretched penile length (SPL)—অর্থাৎ লিঙ্গকে আলতোভাবে টেনে মাপ—ব্যবহার করেন, কারণ এটি উত্তেজিত অবস্থার সবচেয়ে কাছাকাছি মাপ দেয়। যদি এই মাপ বয়সভিত্তিক গড় মানের তুলনায় ২.৫ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনের কম হয়, তাহলে সেটি মাইক্রোপেনিস ধরা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এর অর্থ সাধারণত—

  • ঢিলা অবস্থায় ৫.২ সেমি (২.০৪ ইঞ্চি) এর কম
  • টেনে মাপলে ৮.৫ সেমি (৩.৩৪ ইঞ্চি) এর কম

এভাবে গড় মানের তুলনায় ২.৫ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন কম হলে প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনের লিঙ্গ তার চেয়ে বড় হবে।

 

মাইক্রোপেনিসের আকার: কোন মাপকে মাইক্রোপেনিস বলা হয়?

শৈশব ও কিশোর বয়সে লিঙ্গ ধীরে ধীরে বাড়ে। কিন্তু কোনো কারণে শুরুতেই বৃদ্ধি কম হলে বয়স অনুযায়ী ছোট থেকে যায়। নবজাতকের লিঙ্গের মাপ যদি ২ সেমি (০.৮ ইঞ্চি) এর কম হয়, চিকিৎসকরা তা পরীক্ষা করে দেখেন।

বয়সভিত্তিক কিছু মানদণ্ড—

  • ৩০ সপ্তাহের প্রি-টার্ম: ১.৫ সেমি (০.৬ ইঞ্চি)
  • ৩৪ সপ্তাহের প্রি-টার্ম: ২.০ সেমি (০.৮ ইঞ্চি)
  • পূর্ণ-গর্ভকালীন নবজাতক: ২.৫ সেমি (১.০ ইঞ্চি)
  • ১ বছর বয়স: ২.৬ সেমি (১.০ ইঞ্চি)
  • ৫ বছর: ৩.৫ সেমি (১.৪ ইঞ্চি)
  • ১০ বছর: ৩.৮ সেমি (১.৫ ইঞ্চি)
  • প্রাপ্তবয়স্ক: ৯.৩ সেমি (৩.৭ ইঞ্চি)

সবক্ষেত্রে এটি stretched length—ঢিলা অবস্থার মাপ নয়। ঢিলা অবস্থায় তাপমাত্রা, চাপ, ভয় বা মানসিক অবস্থা অনুযায়ী আকার অনেক বদলে যেতে পারে।

 

মাইক্রোপেনিসের লক্ষণ

মাইক্রোপেনিসের মূল লক্ষণ হলো বয়স অনুযায়ী লিঙ্গের আকার কম হওয়া। এর বাইরে সাধারণত আলাদা উপসর্গ থাকে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি নবজাতকের নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষায় বা শৈশবে ধরা পড়ে।

মাইক্রোপেনিস থাকা অধিকাংশ ব্যক্তির—

  • স্বাভাবিক অণ্ডকোষ ও স্ক্রোটাম
  • স্বাভাবিক প্রস্রাব
  • স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা

কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে যৌনসঙ্গমে অসুবিধা হতে পারে, তবে কিছু ভঙ্গি গভীর প্রবেশে সহায়তা করে।

Buried penis বা চর্বি/চামড়ার নিচে ঢেকে থাকা স্বাভাবিক আকারের লিঙ্গের সাথে মাইক্রোপেনিসের বিভ্রান্তি করা উচিত নয়। এটি সাধারণত স্থূলতা বা অতিরিক্ত ঢিলা ত্বকের কারণে হয় এবং ওজন কমানো বা সামান্য সার্জারিতে ভালো হয়। কিন্তু মাইক্রোপেনিসে লিঙ্গের প্রকৃত মাপই ছোট থাকে।

 

লিঙ্গের আকার কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ?

অনেক পুরুষ লিঙ্গের আকার নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন—বিশেষ করে পর্নোগ্রাফি ও সামাজিক মাধ্যম গড়ধারণাকে বিকৃত করে ফেলেছে। গবেষণা বলছে—গড় উত্তেজিত লিঙ্গের মাপ ৫.১ থেকে ৫.৫ ইঞ্চি। ২০২৩ সালের একটি বড় গবেষণায় (৫৫,০০০ পুরুষ) গড় পাওয়া যায় ৫.৫ ইঞ্চি।

আবার দেখা গেছে—পুরুষ নিজেরা লিঙ্গের আকার নিয়ে নারীদের তুলনায় অনেক বেশি চিন্তিত। একটি পরিচিত জরিপে মাত্র ২০% নারী বলেছেন আকার গুরুত্বপূর্ণ, আর মাত্র ১% নারী বলেছেন এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

মাইক্রোপেনিস কেন হয়?

লিঙ্গ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে শরীরে যথেষ্ট টেস্টোস্টেরন বা অ্যান্ড্রোজেন না থাকলে মাইক্রোপেনিস দেখা দিতে পারে। এতে লিঙ্গের পাশাপাশি অন্য যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশও কমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি বংশগত জিনগত সমস্যার ফলেও হতে পারে।

গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকের শেষের দিকে পুরুষ শিশুর যৌনাঙ্গ বিকশিত হতে শুরু করে, যেখানে ভূমিকা রাখে—

  • Anti-Müllerian hormone
  • Testosterone
  • Dihydrotestosterone (DHT)

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অ্যান্ড্রোজেন বেড়ে গেলে লিঙ্গ দ্রুত আকার পায়। জন্মের পর আবার GnRH, FSH ও LH হরমোনের প্রভাব ঘটে। এই সময়ের যেকোনো পর্যায়ে হরমোনজনিত সমস্যা হলে মাইক্রোপেনিস হতে পারে। কখনো কারণ নির্ণয় করা যায়, কখনো কোনো কারণ পাওয়া যায় না—তখন একে idiopathic micropenis বলা হয়।

 

মাইক্রোপেনিসের ঝুঁকি-কারক

মাইক্রোপেনিস অনেক সময় জিনগত বা হরমোনজনিত রোগের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে।

Kallmann Syndrome

প্রায় প্রতি ৩০,০০০ পুরুষে ১ জনে দেখা যায়। লক্ষণ—

  • হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম
  • অস্টিওপরোসিস
  • শ্রবণক্ষমতা হ্রাস
  • ঘ্রাণ শক্তির অভাব

Prader–Willi Syndrome

প্রতি ২০,০০০–৩০,০০০ শিশুর মধ্যে ১ জনে দেখা যায়। লক্ষণ—

  • দুর্বল পেশী
  • স্থূলতা
  • বুদ্ধিবিকাশজনিত সমস্যা
  • অণ্ডকোষ না নামা
  • মাইক্রোপেনিস
  • ছোট হাত-পা

Klinefelter Syndrome (XXY)

প্রতি ৫০০–১,০০০ পুরুষ জন্মে ১ জনে দেখা যায়। লক্ষণ—

  • ছোট অণ্ডকোষ
  • বন্ধ্যাত্ব
  • স্তনবৃদ্ধি
  • সমন্বয় দুর্বলতা
  • পড়ালেখায় অসুবিধা

অন্যান্য কারণ

  • গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি
  • হাইপোপিটুইটারিজম
  • অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর ত্রুটি
  • অণ্ডকোষের অনুপস্থিতি/অপূর্ণতা
  • 5-alpha reductase deficiency
  • congenital adrenal hyperplasia
  • androgen insensitivity syndrome
 

মাইক্রোপেনিস নির্ণয় (Diagnosis)

নির্ণয়ের প্রধান উপায় হলো stretched penile length মাপা। শিশুদের ক্ষেত্রে পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ও ইউরোলজিস্ট একসাথে মূল্যায়ন করতে পারেন।

শারীরিক পরীক্ষা

লিঙ্গের মাপ, গঠন, অণ্ডকোষের অবস্থান ইত্যাদি পরীক্ষা করে বয়সভিত্তিক চার্টের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

মেডিকেল ইতিহাস

পারিবারিক ইতিহাস, মায়ের গর্ভাবস্থার তথ্য এবং শিশুর বিকাশের বিবরণ মূল্যায়ন করা হয়।

হরমোন পরীক্ষা

টেস্টোস্টেরন, DHT, LH, FSH–এর মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।

ইমেজিং

আল্ট্রাসাউন্ড বা MRI করে যাচাই করা হতে পারে এটি—

  • buried penis
  • webbed penis
  • trapped penis
    নয় কি না।

জেনেটিক পরীক্ষা

জিনগত সমস্যার সন্দেহ হলে রক্তের পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট জিন শনাক্ত করা হয়।

 

মাইক্রোপেনিসের চিকিৎসা

চিকিৎসা বয়স ও কারণের ওপর নির্ভর করে।

হরমোন থেরাপি

টেস্টোস্টেরন বা hCG থেরাপি হরমোন ঘাটতির ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। হরমোন-নির্ভর নয় এমন কারণে এসব থেরাপির ফল কম পাওয়া যায়।

গ্রোথ হরমোন থেরাপি

গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি থাকলে এটি সামগ্রিক বৃদ্ধি এবং লিঙ্গবিকাশে সাহায্য করতে পারে।

সার্জারি

হরমোন থেরাপিতে কাজ না হলে phalloplasty-এর মতো সার্জারি বিবেচনা করা যায়। তবে ঝুঁকি বেশি এবং সবার ফল সন্তোষজনক নাও হতে পারে।

মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা

ব্যক্তি ও পরিবার—উভয়ের মানসিক সহায়তা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Circumcision বিলম্বিত করা

হরমোন থেরাপি চলাকালে দ্রুত বৃদ্ধি হতে পারে, তাই সাধারণত খতনা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

 

মাইক্রোপেনিস প্রতিরোধ

একবার লিঙ্গের পূর্ণ বৃদ্ধি শেষ হয়ে গেলে প্রতিরোধ করা যায় না। তবে শৈশব থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অনেক উপকারী।

প্রিনেটাল কেয়ার

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেক-আপ শিশুর বৃদ্ধি সুরক্ষিত রাখে।

নিয়মিত শিশুচিকিৎসা

শরীরের বৃদ্ধি ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

প্রারম্ভিক চিকিৎসা

শৈশবে হরমোন ঘাটতি ধরা পড়লে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করলে ফল ভালো হয়।

জেনেটিক কাউন্সেলিং

পরিবারে Kallmann বা Klinefelter-এর ইতিহাস থাকলে গর্ভধারণের আগে জেনেটিক কাউন্সেলিং সহায়ক।

 

মাইক্রোপেনিস: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ (FAQ)

চিকিৎসক বয়সভিত্তিক চার্ট অনুযায়ী stretched penile length মাপেন। মাপ যদি গড়ের তুলনায় ২.৫ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন কম হয়, তবে সেটি মাইক্রোপেনিস। আয়নায় দেখে অনুমান করা নির্ভরযোগ্য নয়। বাংলাদেশে ইউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের কাছে মাপ করানোই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে stretched penile length যদি ৮–৯ সেমির কম হয়, তাহলে মাইক্রোপেনিস হিসেবে ধরা হয়। এটি মানসম্মত মাপ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়—দেখে অনুমান নয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থায় কম টেস্টোস্টেরন বা অ্যান্ড্রোজেনের প্রতিক্রিয়া কম থাকার কারণে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিনগত কারণে শরীর পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। বাংলাদেশে সাধারণত হরমোন পরীক্ষা ও জেনেটিক মূল্যায়ন একসাথে করা হয়।
শারীরিক পরীক্ষায় stretched penile length মাপা হয়। এরপর হরমোন পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড বা প্রয়োজন হলে জেনেটিক টেস্ট করা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ও ইউরোলজিস্ট—দুজনই যুক্ত থাকতে পারেন।
হরমোনজনিত ঘাটতি থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন বা hCG সাহায্য করতে পারে। গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি থাকলে সেই চিকিৎসাও উপকারী। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সার্জারি একটি বিকল্প হলেও ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ বা অনলাইন “এনলার্জমেন্ট” এড়ানো উচিত।
অনেক ব্যক্তিরই স্বাভাবিক প্রস্রাব, ইরেকশন ও বীর্যপাত হয়। প্রজনন ক্ষমতা মূলত অণ্ডকোষ ও শুক্রাণুর উপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে প্রয়োজনে ইউরোলজিস্ট বা ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ বীর্য পরীক্ষা করে পরামর্শ দেন।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.